এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আদর্শ সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ নবীন–প্রবীণদের সমন্বয়ে সেক্টরভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট খাতসমূহে পরিকল্পনা প্রণয়ন, পরামর্শ প্রদান এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমে এসব কমিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সমিতি, ক্লাব, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ব্যবস্থায় দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সমাজের সর্বজনশ্রদ্ধেয় সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
🧩 উন্নয়ন পরিকল্পনার ১০টি সেক্টর
সবার জন্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ (Safety, Security & Environmental Protection for All)
সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ (Prevention of Social Injustice & Promotion of Human Values)
শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাত (Education & Culture Sector)
স্বাস্থ্য খাত (Health Sector)
অবকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়ন খাত (Infrastructure & Development Sector)
যুব ও ক্রীড়া খাত (Youth & Sports Sector)
দুস্থ ও অসহায় পুনর্বাসন খাত (Underprivileged & Vulnerable Rehabilitation Sector)
কর্মসংস্থান খাত (Employment Sector)
তথ্য ও প্রযুক্তি খাত (Information & Technology Sector / IT Sector)
কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য খাত (Agriculture, Industry & Commerce Sector)
📌 সেক্টরভিত্তিক প্রতিশ্রুতি
পড়তে সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টর আলাদা কার্ডে সাজানো
ক. সমাজের সকল স্তরে সাম্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে এবং সব দল, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশা, বয়স ও লিঙ্গের মানুষের অধিকার রক্ষা করা হবে।
খ. ‘সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু’ নীতিতে কোনো বিভাজন করা হবে না। নাগরিক হিসেবে সকলের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হবে।
গ. সর্বস্তরে নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও আইনী পদক্ষেপ জোরদার করা হবে।
ঘ. কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা হবে।
ঙ. নারীর সম্পদের অধিকার নিশ্চিতে ধর্মীয় প্রচার ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো হবে।
চ. সর্বস্তরে মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
ছ. শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
জ. সর্বস্তরে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে।
ঝ. গাজীপুর-ইটাখোলা মহাসড়ককে কেন্দ্র করে চুরি-ডাকাতির যে অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে তা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত টহলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
ঞ. বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
ট. খাল, বিল, নদী ও বনাঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ক. ইভটিজিং ও মাদক নির্মুলে ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খ. সামাজিক সচেতনতা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে যুবসমাজসহ সকল স্তরের মানুষের ধর্ম ও নৈতিকতার চর্চা এবং বিকাশ ঘটানো হবে।
গ. নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে আইনি সহায়তা, হেল্পডেস্ক ও কমিউনিটি মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
ঘ. হতাশা, আসক্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করতে ‘কমিউনিটি কাউন্সেলিং’ ও ‘মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’ সেবা চালু করা হবে।
ঙ. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক অবিচার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও জবাবদিহিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
চ. সমাজকল্যাণমূলক ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম ইত্যাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে তারা অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকে।
ছ. সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। এটি বাস্তবায়নে ‘এমপি সাহেব হিসাব চাই’ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতি বছর সার্বিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হবে।
ক. শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, নৈতিকতাসমৃদ্ধ সমাজ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে নতুন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।
খ. বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু এবং শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
গ. মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে দক্ষ একাডেমিসিয়ান ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
ঘ. বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে তথ্য ও প্রস্তুতি সহায়তা এবং সুদবিহীন শিক্ষা ঋণ/সহায়তা তহবিল গঠন করা হবে।
ঙ. বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্য বাড়াতে প্রশিক্ষণ, মডেল টেস্ট ও বিশেষ কাউন্সেলিং কর্মসূচি চালু করা হবে।
চ. জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক পাঠাগার স্থাপন করা হবে এবং পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ছ. দরিদ্র (যাকাত পাওয়ার উপযোগী) শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হবে।
জ. পিছিয়ে পড়া ইবতেদায়ী, কওমী ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ঝ. কালীগঞ্জের বর্তমান ও প্রয়াত বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গকে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের নিকট পরিচিত করতে ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঞ. এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আবহমান সংস্কৃতি রক্ষা ও চর্চায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ট. সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদেরকে উৎসাহ প্রদান, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা ও প্রচারকার্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ক. কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
খ. বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারসমূহে সেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা ও মেডিকেল টেস্টের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
গ. প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক নিশ্চিতকরণ ও বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘স্মার্ট কমিউনিটি ক্লিনিক’-এ রূপান্তরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
ঘ. মা ও শিশুদের জরুরি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবার মান উন্নয়ন, পুষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্য কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ঙ. জরুরি রোগী পরিবহনে ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা হবে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
চ. নিয়মিত ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে, বিশেষত গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায়।
ছ. জরুরি রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী রক্তদাতা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
জ. প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
ক. টঙ্গী থেকে পূবাইল, কালীগঞ্জ হয়ে নরসিংদী-সিলেটগামী সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে।
খ. গাজীপুর-৫ আসনের অন্তর্গত সকল কাঁচা, আধা-পাকা ও অসমাপ্ত রাস্তা, ব্রিজ এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বেহাল, ভাঙাচোরা রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজের সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। (উল্লেখ্য: বর্তমান সড়ক অবকাঠামো – পাকা রাস্তা: ৭২ কিমি, আধা-পাকা: ২৮ কিমি, কাঁচা রাস্তা: ৫৭০ কিমি, নৌপথ: ২৫ কিমি, রেলপথ: ১৫ কিমি।) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP)-এর আওতায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করে পর্যায়ক্রমে এ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
গ. কালীগঞ্জ পৌরসভাকে আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ একটি পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হবে।
ঘ. কালীগঞ্জ ও পূবাইল বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল বাজারে উন্নীত করা হবে।
ঙ. স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সাইনেজ, পার্কিং সুবিধা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক লাইটের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ছ. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জ. অভ্যন্তরীণ খালগুলো পুনঃখনন, সংস্কার ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ঞ. পূবাইল এরিয়ায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হবে।
ক. শিশু ও কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য একটি ‘শিশু পার্ক’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
খ. কালীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ‘মিনি স্টেডিয়াম’ নির্মাণ করা হবে।
গ. খেলাধুলার জন্য খেলার মাঠ বৃদ্ধি ও বিদ্যমান মাঠগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
ঘ. তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে মাঠভিত্তিক খেলার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।
ঙ. প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
চ. যুব নেতৃত্ব, সামাজিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ বিকাশে ‘কমিউনিটি যুব ক্লাব’, বিভিন্ন ‘কর্মশালা’ ও ‘লিডারশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে।
ক. দারিদ্র্য, অসহায় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য স্বাবলম্বী প্রকল্প চালু করা হবে।
খ. প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও নিঃস্ব পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
গ. দুস্থ যুব ও নারীদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে ও আয়ের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হবে।
ঘ. সমাজের সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ছিন্নমূল ও দুস্থ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ক. স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে।
খ. যুবক ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র খামার, কৃষি ও গ্রামীণ উদ্যোগভিত্তিক কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
গ. ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রামীণ উদ্যোগ (SME), হস্তশিল্প ও স্থানীয় শিল্প-উদ্যোগকে সহায়তা করে সৃজনশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
ঘ. নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুদবিহীন ঋণ তথা ‘কর্জে হাসানা প্রজেক্ট’ চালু করা হবে।
ঙ. ‘আমার আয়ের সংসার’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা হবে।
চ. প্রতিযোগিতামূলক চাকরির প্রস্তুতি, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এবং ইন্টার্নশিপ সুযোগের মাধ্যমে চাকরি প্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
ছ. ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ বিকাশে একটি ‘ইউথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করা হবে। এর আওতায় উদীয়মান তরুণদের অনলাইন, অফলাইন ও হাইব্রিড মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্রেনিং ও গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে।
জ. কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিদেশ গমনে আগ্রহীদের জন্য ভাষা শিক্ষা এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী দক্ষতা উন্নয়ন কাজের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে এবং বিশ্বস্ত মানবসম্পদ রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা প্রদান করা হবে।
ঝ. রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিদেশফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
ঞ. কোনো প্রবাসী ভাই/বোন বিদেশে মারা গেলে সরকারী ব্যবস্থাপনায় লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
ক. তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আইটি কোর্স ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
খ. তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার, গ্রাফিক্স, ডেটা অ্যানালাইসিস, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিজিটাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
গ. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসেবা খাতে ধীরে ধীরে ডিজিটাল সেবা ও ই-গভর্নেন্স চালু করে সকল সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা হবে।
ঘ. গ্রামীণ এলাকায় সহজলভ্য হাই স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ঙ. অনলাইন হয়রানি, প্রতারণা ও অপপ্রচার রোধে ডিজিটাল সচেতনতা কর্মসূচি এবং ‘অনলাইন সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করা হবে।
ক. পরিকল্পিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপন এবং নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
খ. বিদ্যমান শিল্পমালিকদের জন্য ব্যবসা পরিচালনায় সহায়ক অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
গ. উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য করা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ঘ. কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে উন্নত বীজ, সার, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হবে।
ঙ. কৃষকদের জন্য ‘সুদমুক্ত কৃষি ঋণ’ চালুর উদ্যোগ করা হবে।
চ. উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতকরণ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ বাজারসমূহ আধুনিকায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।
ছ. সকল ধরনের বাজার সিন্ডিকেট নির্মূল করতে বাজার মনিটরিং ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জ. এ অঞ্চলে অধিকহারে উৎপাদিত জাতীয় ফল ‘কাঁঠাল’-এর সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উপযুক্ত বাজারজাত নিশ্চিত করা হবে এবং বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঝ. এ অঞ্চলে মোট নীট কৃষি জমি (এক ফসলী, দু’ফসলী, তিন ফসলী) প্রায় ২৭,০৮০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমির ফলন বৃদ্ধি ও অনাবাদি জমিগুলোকে আবাদযোগ্য করে উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঞ. এক ফসলি জমিকে দুই/তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষিবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)-এর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারিভাবে কৃষিবিদ নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ট. কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি শ্রমিক প্রেরণের ব্যবস্থা করা হবে।
ঠ. সকল পুকুরগুলোকে মাছ চাষ উপযোগী করা ও মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
⏳ ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার সময়সীমা
✅ প্রথম ১ বছর
সামাজিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা জোরদার
স্বাস্থ্যখাতের জরুরি সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন
যুব প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্কিল প্রোগ্রাম চালু
কৃষিখাতে উৎপাদন সহায়তা ও কৃষকদের প্রণোদনা
শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার
🚧 প্রথম ১–৩ বছর
সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন
তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আইটি হাব স্থাপন
গুরুত্বপূর্ণ বাজারসমূহ আধুনিকায়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি